শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬
ProdhanKhabor | Popular NewsPaper of Bangladesh
শুক্রবার ০৫ জুন ২০২৬ ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাছের পৃথিবী ছোট হইলে মানুষের পৃথিবীও ছোট হয় যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন ট্রাম্প, কিন্তু পিছু হটছে না ইরান সিংগুলা ব্রাইট স্টার ক্লাবের নতুন কমিটিতে রুবেল সভাপতি, মহিউদ্দিন সম্পাদক দাউদকান্দিতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হামলা ভাংচুর ইউপি সদস্যসহ আহত ৭ বাংলাদেশে আদিবাসী এলো কোথা থেকে? দাউদকান্দির কৃতীসন্তান নূরআলম ভূঁইয়া ইতালির মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী দাউদকান্দিতে বিদ্যুৎতের তার ছিড়ে শৈবাল প্রজেক্টের অর্ধকোটি টাকার মাছ মরে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে ৫০০পিস ইয়াবাসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ দাউদকান্দি ও সুন্দলপুর ইউনিয়নবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম প্রধান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আঠারোটি থ্রীহুইলার আটক করেছে দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা ঊঁচু করে দাঁড়াবে: ড. খন্দকার মোশাররফ দাউদকান্দিতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে জাসাসের উদ্যোগে ঈদবস্ত্র বিতরণ রাজামিয়া সমাজ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ইফতার সামগ্রী বিতরণ কবি-কলামিস্ট ও সংগঠক আলী আশরাফ খান'র দাফন সম্পন্ন বিএনপিই একমাত্র দল,গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে: ড. খন্দকার মোশাররফ দাউদকান্দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব ও ব্যবহার বিষয়ক দিনব্যাপী সেমিনার দাউদকান্দিতে সাংবাদিকদের সাথে বিএনপির মতবিনিময় সভা অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের উদ্যোগে আতা সরকারকে ঘিরে সাহিত্য-ইতিহাসের গভীর আলোচনা ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারে ‘তারুণ্যের শক্তি’ উপকমিটি গঠিত দাউদকান্দিতে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে ১০ দলীয় জোটের মতবিনিময়
দাউদকান্দির পুটিয়া গ্রামের তরুণ হোসাইনের

"সখের ঘটিতে খেজুরের রসের চাহিদা মিটছে"

"সখের ঘটিতে খেজুরের রসের চাহিদা মিটছে"
"তিন বছর আগের কথা। এক গাছি খেজুর গাছ পরিস্কার করতে আসে হোসাইনদের গ্রামে। তখন সে আরো ছোট ছিলো। গাছের নীচে দাড়িয়ে মনোযোগ দিয়ে তা দেখছে। সে এতে আকৃষ্ট হয় এবং গাছিকে বলে তাকে এটা শিখানোর জন্য। গাছি তখন খেজুর গাছ পরিস্কার ও রস সংগ্রহের পদ্ধতি শিখিয়ে দেয় তাকে।

তারপর থেকে ৩ বছর ধরে নিজেদের দুইটি গাছে প্রতি বছর ঘটি দেয় হোসাইন। এতে তাদের পরিবারে খেজুরের রসের চাহিদা মিটছে। আত্মীয় স্বজনের বাসায় পাঠাচ্ছে । বন্ধুরাও রস ক্ষেতে আসে। বিক্রি করতে না চাইলেও অনেকে কিনে নেয়।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসাইন। বয়স ১৯। বাবা নেই। দুই ভাই দুই বোন। মা, দাদা-দাদী চাচারা আছে। যৌথ পরিবারে বসবাস। সে স্থানীয় সিঙ্গুলা ইসলামিয়া ডিগ্রি মাদরাসা থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

জানা যায়, শীত আসলেই দুইটি খেজুর গাছ পরিস্কার করে রস সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত করে হোসাইন। প্রতিদিন বিকেলে দুটি গাছে ঘটি দেয়। সকালে ঘটি নামালে ৪ থেকে ৫ কেজি রস সংগ্রহ হয়। আর শীত বেশি পরলে ৫ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত রস সংগ্রহ করা যায়।

বছরে ৩ মাস রস সংগ্রহ করে। এই বছর একমাস ধরে রস সংগ্রহ করছে। আগামী দের থেকে দুই মাস রস সংগ্রহ করা যাবে বলে জানান। যৌথ বড় পরিবার তাদের। এছাড়াও আত্মীয় স্বজনরা রস নেয়। তাই রস বিক্রির তেমন তাগিদ নেই হোসাইনের।

তবে, অনেকে রস নিতে আগ্রহ প্রকাশ করায় মাঝে মধ্যে বিক্রি করে। লিটার প্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এতে তার কিছু টাকা হাতে আসে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হোসাইন তখন গাছে ঘটি বসাচ্ছে।

দাদী সাজেদা বেগম নীচে দাড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, সে আমার বড় ছেলের নাতি। আমার নাতি তিন বছর ধরে এই দুইটা গাছে ঘটি দেয়। গাছ থেকে পাওয়া রস আমার ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিদের নিয়ে খাই। একসময় অনেক রস পাওয়া যেতো। এখন তেমন নাই।

মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, তিন বছর আগে এক গাছি আমাকে একবার দেখাইয়া দেয়। তারপর থেকে আমি নিজেই গাছে ঘটি দেই। শীতকাল আসলেই খেজুরের রস নিয়ে আমাদের ভাবতে হয় না। দুটি গাছ থেকে সংগ্রহ হওয়া রস আমাদের পরিবারের চাহিদা মিটায়। আমার বন্ধুরা আসে তাদেরকে আমি রস দেই। আমি এতে আনন্দিত। আলহামদুলিল্লাহ আমার দুইটি গাছের রস অনেক মিস্টি। ক্ষেতেও সুস্বাদু।

দাদা বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমার নাতি সখ করে গাছে ঘটি দিয়েছিলো। তার সখের ঘটি এখন আমাদের চাহিদা পূরণ করছে। খেজুরের রস আমাদের গ্রামীন ঐতিহ্য। এটা সংগ্রহ ব্যবস্থা আমাদের ধরে রাখতে হবে।

ঐ ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা এআইপি (এগ্রিকালচার ইমপর্টেন্ট পার্সন) মতিন সৈকত বলেন, একটা সময় ছিলো। শীতকাল আসলে গ্রামে ভিন্ন রকমের আমেজ বিরাজ করতো। খেজুরের রসের গুর তৈরী হতো। সেই গুর দিয়ে নানান রকম পিঠা বানানো হতো।আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে পাঠানো হতো। রসের সিন্নি তৈরী করা হতো।

এখন তা নেই বললেই চলে। খেজুর গাছ থাকলেও রস সংগ্রহ করার গাছি নেই। তাই আমাদের ঐতিহ্যবাহি সুস্বাদু এই খাবারটি বিলুপ্তির পথে। হোসাইন আমাদের জন্য অনুকরণীয়। তার মতো গ্রামে গ্রামে রস সংগ্রহে আগ্রহী তরুণ থাকলে। রসের চাহিদা মিটতো এবং এই প্রজন্ম এর স্বাদ নিতে পারতো। ঐতিহ্য না হারিয়ে, বেঁচে থাকতো।

পিকে/এসপি
গাছের পৃথিবী ছোট হইলে মানুষের পৃথিবীও ছোট হয়

গাছের পৃথিবী ছোট হইলে মানুষের পৃথিবীও ছোট হয়